শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ট্রাম্পের ভুল বয়ান

কেউ অন্য ধর্ম বা বর্ণের মানুষ হলে কি তাদের প্রতি ভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কোনো দায়িত্ব নেই? ‘দায়িত্ব’ তো একটি ভালো শব্দ, এর সাথে জড়িত থাকে ন্যায়বোধ, মানবিক বোধ। এর বিপরীতে যদি কোনো ধর্ম বা বর্ণের মানুষের প্রতি অন্যরা মিথ্যাচার করে, জুলুম করে, ঘৃণা প্রকাশ করেÑতাহলে এমন কর্মকান্ডকে কোন শব্দে চিহ্নিত করা সঙ্গত হবে? চিহ্নিত করতে হলে তো বিবেচনাবোধ থাকতে হবে। কিন্তু তেমন বিবেচনাবোধ কি বর্তমান সভ্যতায় লক্ষ্য করা যায়? পরিতাপের বিষয় হলো, যারা বর্তমান সভ্যতার শাসক, তাদের মধ্যেই সেই বিবেচনাবোধ অনুপস্থিত। বরং তারা ভুল কথা বলেন, অবাস্তব কথা বলেন, যার সাথে প্রকৃত তথ্য-উপাত্তের মিল নেই। এমন আচরণের মাধ্যমে তারা কি অর্জন করতে চান? এতে কি তাদের ভূ-রাজনীতি বা নির্বাচনী রাজনীতির কোনো উপকার হয়? উপকার না হলেও কারো না কারো কিছু ক্ষতি তো হয়। ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি করাই কি বর্তমান সভ্যতার শাসকদের প্রধান কাজ?

সভ্যতার শাসকদের প্রসঙ্গে আসলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা বলতে হয়। তাকে নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে বহু প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে। বহুবার ট্রাম্পকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। বিশেষ করে গত নির্বাচনে হারার পর তিনি এবং তার দলের কর্মীরা যে বিশৃঙ্খল আচরণ করেছেন এবং যেভাবে মার্কিন পার্লামেন্ট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা ভোলার মত নয়। সেই কালিমা দূর হবার নয়। ট্রাম্পের বক্তব্য কতটা নেতৃত্বসুলভ সেই প্রশ্ন তো করাই যায়। আমরা জানি, à§« নবেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে ট্রাম্প বাংলাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গেলেন কেন? ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে হিন্দু, খৃস্টান ও অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বোরোচিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশটিতে দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন পুরোপুরিভাবে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রয়েছে।’ ট্রাম্প বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে যে বক্তব্য রাখলেন, তার সাথে বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস কিংবা যুক্তরাষ্ট্র সরকার কি একমত হবেন? তবে ভিত্তিহীন বক্তব্যের জন্য ট্রাম্প বাংলাদেশের জনগণের চোখে অনেক নিচে নেমে গেলেন।

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে à§« আগস্ট বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। শেখ হাসিনা তখন ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পরম মিত্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভালো লাগেনি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান। তখন ভারতে বিজেপি ঘরানার কিছু গণমাধ্যমে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ব্যাপক প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল। একই সময়ে বিবিসি তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, এইসব প্রোপাগান্ডা সঠিক নয়। এতদিন পর আজ পুরনো সেই ভাঙা রেকর্ডটা ট্রাম্প বাজাতে গেলেন কেন? এটা কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খুশি করার জন্য? নরেন্দ্র মোদিতো ট্রাম্পের ভালো বন্ধু। মোদি খুশি হলে কি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের ভোট কিছুটা বেশি পাবেন ট্রাম্প? তার বক্তব্যের সাথে কি নীতিভ্রষ্ট ভোটের রাজনীতি জড়িত? এমন বিশ্লেষণে বাংলাদেশে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ভাবমর্যাদার পারদ হয়তো আরও নিম্নগামী হবে। ভাব মর্যাদা হারালে বড় বড় নেতাদের আর কিইবা অবশিষ্ট থাকে। ট্রাম্পের ভিত্তিহীন বক্তব্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের তীব্র প্রতিবাদ যৌক্তিক হতো। অন্তর্বর্তী সরকার সেটা করেনি। তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম মৃদুভাবে কিছু কথা বলার চেষ্টা করেছেন। তার একটি হলোÑনেত্র নিউজ দারুণ সাংবাদিকতা করেছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে পরিচালিত কিছু মিথ্যা প্রচারণাকে তুলে ধরেছে। উপলব্ধি করা যায়, ভিতর ও বাইরের নানা ষড়যন্ত্রের বাতাবরনে সতর্কভাবে চলতে চাইছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমান সভ্যতায় সত্য বলা যে বড়ই কঠিন। আমরা অপেক্ষায় আছি একটি অবাধ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের। নির্বাচিত সরকার কঠিনেরে ভালোবেসে শির উঁচু করে কিভাবে পথ চলে, সেটাই হবে দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ